ওয়াজ মাহফিল ২০২৫

শুকুন্দীর ডায়েরি: ২০২৫

এক পশলা বেহেশতি নূর এবং
শুকুন্দীর সেই মায়াবী রাত

৩য় বার্ষিক মাহফিল

"মানুষের ভিড় ছিল অনেক, কিন্তু কোলাহল ছিল না। ছিল এক গভীর নীরবতা, যা কেবল অন্তরের কানে শোনা যায়।"

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার শুকুন্দী গ্রামটি এমনিতে বড় শান্ত। দক্ষিণ পাড়ার নতুন ব্রিজ সংলগ্ন এলাকাটিতে সেদিন বিকেলের রোদটা যখন মরে আসছিল, তখনই বোঝা যাচ্ছিল রাতটা অন্যরকম হবে। হিলফুল ফুজুল কল্যাণ পরিষদ-এর ৩য় বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল উপলক্ষে প্যান্ডেলের সাদা কাপড়গুলো যখন বাতাসে দুলছিল, তখন মনে হচ্ছিল কোনো এক অপার্থিব শান্তির ছায়া নামছে এই জনপদে।

মানুষ আসছে। কেউ দূর থেকে পায়ে হেঁটে, কেউবা টমটমে। ধর্মপ্রাণ এই মানুষগুলোর চোখে-মুখে এক ধরণের তৃপ্তি। শৃঙ্খলার চাদরে মোড়ানো পুরো আয়োজনটি দেখে মনে হচ্ছিল, সমাজটা যদি এমনই হতো—সবাই সবার পাশে দাঁড়িয়ে এক সুরে "আমিন" বলছে!

মঞ্চ আলোকিত করেছেন যারা

মাহফিলের সভাপতিত্ব করেছেন প্রাজ্ঞ চিন্তাবিদ নূরুল ইসলাম সাহেব। প্রধান অতিথি হিসেবে মাহফিলকে ধন্য করেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব এড. সিরাজ মিয়া। প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইলমের আলোকবর্তিকা আল্লামা হযরত মাওলানা আমানুল্লাহ সাহেব (মুহতামিম, হোসাইনাবাদ মাদরাসা)।

প্রধান আকর্ষণ: মুফতী হাবিবুর রহমান (আদিব হুজুর)

দেশবরেণ্য এই মুহাদ্দিস তাঁর বয়ানে ঈমান, তাকওয়া এবং আখিরাতমুখী জীবনের পথ দেখিয়েছেন। তিনি যখন সমাজ সংস্কার এবং সালাম-কালামের শুদ্ধতা নিয়ে কথা বলছিলেন, প্যান্ডেলের প্রতিটি মানুষ যেন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনছিলেন। তাঁর সেই হৃদয়স্পর্শী আলোচনা ছিল যেন তপ্ত মরুর মাঝে এক পশলা বৃষ্টি।

এছাড়াও মুফতী মাহমুদুল হক মামুন সাহেব এবং মুফতি শামসুল ইসলাম মাদানী সাহেব তাদের ওজস্বী বক্তব্যের মাধ্যমে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছেন। পুরো আয়োজনটি অত্যন্ত নিপুণভাবে পরিচালনা করেছেন মাওলানা শফীকুল ইসলাম সাহেব।

মেধার লড়াই ও সাফল্যের হাসি

মাহফিলের মাঝেই আয়োজিত হয়েছিল দুটি চমৎকার প্রতিযোগিতা। একদিকে মক্তব শিক্ষার্থীদের কোমল কণ্ঠের তিলাওয়াত, অন্যদিকে জেলাব্যাপী উন্মুক্ত ইসলামিক কুইজ। মেধা যাচাই শেষে মোট ১৮ জন বিজয়ীকে পুরস্কৃত করা হয়।

এই বিশাল আয়োজনের নেপথ্যের মূল কারিগর ও পরিকল্পনাকারী ছিলেন সংগঠনের সুযোগ্য কর্ণধার মুফতী শরীফুল ইসলাম। তাঁর বিচক্ষণ তত্ত্বাবধানে এবং নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবকদের পরিশ্রমেই শুকুন্দীর মাটি আজ ধন্য।

স্মৃতিরা কথা বলে: মাহফিলের ভিডিও চিত্র

"দৃশ্যগুলো ফুরিয়ে যায় না, তারা হৃদয়ে জমা থাকে।"

অশ্রুসিক্ত আখেরী মোনাজাত

রাত তখন বাড়ছে। শুকুন্দীর চারপাশ নিস্তব্ধ। মোনাজাত ধরলেন হুজুর। শত শত হাত একযোগে আকাশপানে উঠেছে। কারো মুখে কোনো শব্দ নেই, শুধু ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্নার আওয়াজ। দেশ, জাতি আর প্রবাসে থাকা স্বজনদের জন্য মহান রবের কাছে যে মিনতি ঝরছিল, তা উপস্থিত সবার অন্তরের মণিকোঠায় দীর্ঘস্থায়ী এক ছাপ রেখে গেছে।

আর্তমানবতার এই কাফেলায় আপনিও শরিক হোন

শেয়ার করুন: